আন্তর্জাতিক

ইংল্যান্ডে বাড়ি নির্মানে নতুন নিয়ম: লাগবে প্রতিবেশিদের ভোট

ইংল্যান্ডে নতুন বাড়ি নির্মাণে এবং বিদ্যমান বাড়িগুলো সম্প্রসারণের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলের প্লানিং পারমিশনের নিয়ম বাতিল করে প্রতিবেশীদের ভোটিং পদ্ধতি চালু করতে চায় সরকার। এজন্য আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বরিস জনসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ইংল্যান্ডে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর নতুন তিন লাখ ঘর নির্মাণ করা। কিন্তু নতুন বাড়ি নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল ‘নট-ইন-মাই-ব্যাকইয়ার্ডস, সংক্ষেপে নিম্বি আন্দোলন। এই আন্দোলনের বিপরীতে কিছু প্লানিং বিধিও প্রনয়ন করে সরকার। কিন্তু এখন এসব বাতিল করে দিয়ে যে স্থানে বাড়ি নির্মাণ কিংবা সম্প্রসারণের প্রস্তাব আসবে, সেখানকার বাসিন্দারা ভোট দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেখানে সেই নির্মাণকাজ হবে কিনা। সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘স্ট্রীট ভোট’।

বাকিংহামশায়ারের চেশাম এন্ড আমা’রশাম নির্বাচনী এলাকাটি কনজারভেটিভ দলের শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের উপ-নির্বাচনে আসনটি চলে যায় লিবডেমের দখলে। কারণ হাউজিং ডেভেলাপমেনট নিয়ে সরকারের নীতির সাথে স্থানীয় জনগণ চরম মাত্রায় বির’ক্ত হয়। এখান থেকে শিক্ষা নিয়েছে টোরি সরকার।

যে কোন এলাকার পুরনো বাসিন্দাদেরকে সেখানে নতুন বাড়ি নির্মাণ হলে তাদের জন্যই ভালো হবে- এ কথা বোঝানো সহ’জ কাজ নয়। এ কারণে হাউজিং সেক্রেটারি এখন একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। স্থানীয় জনগণ যদি নতুন বাড়ি নির্মাণ নিজেদের জন্য মঙ্গলজনক মনে করে, তবে বিরোধিতাকারীরা টিকবে না।

চেশাম এলাকায় নিজের বাড়ির কাছেই একটি হাউজিং ডেভেলাপমেনট নিয়ে চিন্তিত জো। তিনি মনে করেন, স্ট্রীট ভোট এর ধারনাটি বেশ ভালো।

ঘর নির্মাণ আর গণতন্ত্রকে একসাথে করে ফেললে সমস্যা যেটি হবে, তা হলো যারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাস করেন, তারাই ভোট দেবেন; যারা বাইরে থেকে এসে সেখানে বসবাস করতে চান, তাদের ভোটাধিকার থাকবেনা।

ব্রাইটনে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়ে হাউজিং বিষয়ক এক সম্মেলন। সম্মেলনে আসা অনেকে বলেছেন, স্থানীয়দের কাছে হাউজিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিলে বাড়ি নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হবে।

হাউজিংকে মানুষের সাধ্যের মধ্যে আনতে সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও ইংল্যান্ডে বাড়ির গড় মূল্য বেড়েছে। এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে প্রতিটি বাড়ির গড় মূল্য ৩শ হাজার পাউন্ড। বার্ষিক গড় আয়ের সাথে বাড়ির গড় মূল্যের তুলনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৭ সালে এউ দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ছিল সাড়ে তিন গুন, আর গত বছর এই ব্যবধান ছিল ৯ গুন। গড় আয় আর বাড়ির মূল্যের এই ব্যবধান বাড়ছেই। ১৯ বছর বয়সের আইন বিষয়ের শিক্ষার্থী ই’মানী ব্রাইটনে হাউসিং সম্মেলনের কাজে সাহায্য করতে এসেছে। জানা যাক, ই’মানি কি কখনও বাড়ি কিনতে পারবে?

ইংল্যান্ডে প্রতি বছর তিন লাখ বাড়ি নির্মাণের সরকারি লক্ষ্য পূরণ করার মানে হলো, বর্তমানে যে হারে নির্মাণ হচ্ছে, তাঁর চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়াতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণ কি আসলেই সম্ভব? বিরাজমান বাস্তবতা এবং লক্ষণ বলছে, সম্ভব না।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!